একজন আয়মান সাদিক ও তার টেন মিনিট স্কুল






জরাগ্রস্ত এ পৃথিবীতে তরুণরাই পারে প্রাণ-স্পন্দন ও জাগরণ ঘটাতে; কারণ তাদের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয় নব-জীবন ও নতুন দিনের গান।

“ইয়ুথ ইজ দ্য বেস্ট পিরিয়ড অপ দ্যা লাইফ – যৌবনকাল হচ্ছে জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়”।

আর এ যৌবনের অধিকারী আজকের যুব বা তরুণ সমাজ। তরুণ সমাজ অমিত শক্তির অধিকারী। তরুণদের নিয়ে অনেক কবি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন__  ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা’। 

আবার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেছেন__ 
‘এ বয়স যেন ভীরু- কাপুরুষ নয়,
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়,
এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’। 




বাংলাদেশে আজ তরুন সমাজে তেমনই একজন তরুণের উদাহরণ আয়মান সাদিক। আয়মান সাদিক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র ছাত্র। বিত্তবান পরিবারের সন্তান, পড়ানো যার নেশা।

মানুষকে সাহায্যই যার ধ্যান, তার তো মানুষের অল্প কষ্টে মন কাঁদবেই; যার গল্প বলছি তিনিও এমন প্রকৃতির। তিনি ভর্তি কোচিংয়ে ক্লাস নিতে গিয়ে আবিষ্কার করলেন এমন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে; যারা টাকার অভাবে ভর্তি কোচিং করতে পারছে না।

পড়াতেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ে। নতুনদের  পথ বাতলে দিতেন দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আঙিনায় পা রাখার জন্য ।

নিজের পড়াশোনা আর পড়ানোর পাশাপাশি তিনি ভাবতে শুরু করলেন কিভাবে এসব শিক্ষার্থীদের কাছে সহজেই পৌঁছানো যায়।

তার চিন্তার সমাধান পেয়ে গেলেন! হ্যাঁ, লাইভ ভিডিওতেই তিনি সব শিক্ষার্থীদের পড়ানোর প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে নিজের চিন্তার সমাধান পেয়ে গেলেন। শুরু করলেন ‘টেন মিনিট স্কুল’।

বিভিন্ন সামাজিক আর পারিবারিক প্রতিবন্ধকতার জন্য ঢাকায় এসে ভালভাবে কোচিং করা তো অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো ব্যাপার।

একদিন বন্ধুদের সাথে মিলে হঠাৎ করেই ফেসবুকের লাইভ ভিডিও ফিচার ব্যবহার করে ক্লাস নিলেন। প্রথম দিনই প্রচুর সাড়া পেলেন।

শিক্ষার্থীরা তাই এখন ঘরে বসেই ক্লাস করছে। শুধু কি বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং, এখন তো প্রাইমারী লেভেল থেকে শুরু করে প্রোফেশনাল– সব রকমের শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স রয়েছে সেখানে।

এই ভার্চুয়াল ক্লাসরুমগুলো সত্যিই যেন এক আনন্দ পাঠশালা।

সুচিন্তা ও তার বাস্তবায়নের ফসল হিসেবে অল্প সময়েই পেয়েছেন অনেক সরকারী-বেসরকারী পুরষ্কার। সম্প্রতি পেয়েছেন ব্রিটেনের রাণীর দ্য কুইন’স ইয়াং লিডার্স এওয়ার্ড।

আয়মান সাদিকের মতো তরুণরাই পারবে আগামীর বাংলাদেশকে আলোকিত করতে। দেশকে ও দেশের মানুষকে সাহায্য করার স্বপ্ন বয়ে চলা সব তরুণদের জন্য রইলো অনেক শুভকামনা।
কার্টেসী: রাবেয়া আক্তার শেলী



আরো জানুন:

(১) বাংলাদেশে মোবাইল ফোর জি সেবা
(২)  বিমান সাদা হবার রহস্য