SIKDER ONLINE

Trusted news blog of the World.

বিমান কর্তৃপক্ষ ও কন্ট্রোলরুম একে অপরের দোষারোপে ব্যস্ত

নিউজ ডেস্কঃ চালকের ভুল নাকি কন্ট্রোল রুমের ভুল এরকম দোষারোপে মেতেছে বিমান কর্তৃপক্ষ ও ভুল কন্ট্রোলরুম।
চালকের ভুলের কারণে নেপালের কাঠমান্ডুতে ঢাকা থেকে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জিব গৌতম সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, পাইলটের ভুলেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

সঞ্জিব জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে আসা ‘বিএস-২১১’ বিমানটিকে রানওয়ের দক্ষিণ পাশ থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বিমানটি গতি কম নিয়ে উত্তর দিক থেকে অবতরণ করার চেষ্টা করে।

এতে বিমানটি রানওয়ের পাশে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনাকে পাইলটের ভুল বলে উল্লেখ করেছেন নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক।

এদিকে আনিকা পাণ্ডে নামে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিজনেস ইনসাইডার জানায়, নামার সময় স্বাভাবিক গতি ছিল না ইউএস বাংলার বিমানটির।

শেষ মুহুর্তে বিমানটি নামতে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করে। এর পরমূহুর্তেই বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে যায়।

এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশনের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতমকে উদ্ধৃত করে কাঠমাণ্ডু পোস্ট জানায়, অবতরণের সময়ে বেশ অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায় ফ্লাইটিতে।

সেটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন ছিলো। রানওয়ের দক্ষিণ দিকে অবতরণের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু দক্ষিণ দিকের অনুমতি নিয়ে সেটি উত্তর দিকের রানওয়েতে ল্যান্ড করে।

তিনি সন্দেহ করছেন, কোনোও কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটা ঘটেছে।

এদিকে, ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানিয়েছেন, কন্ট্রোলরুমের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না।

সোমবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ইউএস-বাংলার করপোরেট অফিসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

ইমরান আসিফ বলেন, তারা একেকবার একেক নির্দেশনা দিচ্ছিল, যে কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আমাদের পাইলট আবিদ সুলতান বিমান বাহিনীতে ছিলেন। ১৭ হাজার ঘণ্টা ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

ইমরান আসিফ বলেন, দুর্ঘটনায় মোট আটজন মারা গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে এই আটজনই বাংলাদেশি কি না সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত না।

১৬ জন জীবিত রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি, তবে তাদের পরিচয় আমরা জানতে পারিনি।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিআই) থেকে পাইলটকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ায় টেকনিক্যাল গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয় না, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল।

ইতোমধ্যে কন্ট্রোল রুম এবং পাইলটের কনভারসেশন ইউটিউবে এসেছে।

তিনি বলেন, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের দেড় ঘণ্টা পর আমরা দুর্ঘটনার খবর পাই।
ওই ফ্লাইটে মোট ৩২ জন বাংলাদেশী, ৩৩ জন নেপালী এবং চীন ও মালয়েশিয়ার দুই জন ছিলেন।

এছাড়া দুইজন পাইলট, দুইজন ক্রু ও দুইজন কেবিন ক্রু ছিলেন। ফ্লাইটে প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলেন ৬৫ জন এবং দুই শিশু ছিল।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উড়োজাহাজে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। এটা দুর্ঘটনা।

কামরুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছরে ইউএস-বাংলা ৩৬ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে কোনো ত্রুটি ছাড়া। এই ফ্লাইটটিতেও কোনো ত্রুটি ছিল না। এটি একটি দুর্ঘটনা।

নেপালের সিভিল এভিয়েশন দুর্ঘটনার কারণ জানতে কাজ করছে। আর ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

ইউএস-বাংলা ইতোমধ্যে একটি হটলাইন চালু করেছে। যাত্রীদের স্বজনরা প্রতিমুহূর্তের খবর পাচ্ছে।

আরো জানুন:

(১) জীবিত ১৬ জনের নাম প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ

(২) ফেসবুকে চাকরী

Please enable JavaScript to view the comments powered by Disqus.