.

Trusted news blog of the World.

পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু নারী সিনেটর কৃষ্ণা কুমারি কোহলি

সিন্ধু প্রদেশের থর এলাকার নানগারপারকার গ্রামের বাসিন্দা কোহলি ১৯৭৯ সালে এক গরীব কৃষকের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন।

তিনি যখন শিশু ছিলেন তখন এক ‍ভূস্বামীর পরিচালিত জেলে তাকে তিন বছর বন্দি থাকতে হয়েছিল। সেখানে তার পরিবারের অন্যান্যরাও বন্দি ছিলেন এবং দাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

১৬ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি পড়াশুনা চালিয়ে যান। পরে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

একজন সামাজিক আন্দোলনকারী হিসেবে তিনি পিপিপিতে যোগ দেন। এরপর থরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতে শুরু করেন।

কৃষ্ণার ভাই ভীরজি কোহলি একজন নামকরা মানবাধিকার কর্মী। সিন্ধুর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে তিনি খ্যাতিমান হন।

পিপিপি-র এই নেতা এবং নানগারপারকার ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ভীরজি হায়দ্রাবাদের কারাগারে ১১ মাস থাকার পর শনিবার মুক্তি পান।

কথিত মিথ্যা অভিযোগে ভীরজিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো নিয়মিত আসনে একজন অমুসলিম দলিতকে সিনেটর নির্বাচিত করে পিপিপি। এভাবে কৃষ্ণা কোহলিসহ ছয়জন অমুসলিম বর্তমানে বিরোধী এই দলটি থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।

মুসলমি সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের ইতিহাসে এটাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব।

কোহলির পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের বীর যোদ্ধা ছিলেন। তারা ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।

কৃষ্ণা একজন মানবাধিকার কর্মী, যিনি নারী অধিকার, দাস শ্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনেস্তা বিষয়ের বিশেষজ্ঞ।

কৃষ্ণা পাকিস্তানের ইতিহাসে সিনেটর হিসেবে মনোয়ন পাওয়া দ্বিতীয় হিন্দু নারী। তার আগে রত্না ভগবানদাস চাওলা পাকিস্তান সিনেটের প্রথম হিন্দু নারী সিনেটর ছিলেন। পিপিপি থেকে নির্বাচিত সিনেটর হিসেবে চাওলা ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিন্ধু প্রদেশের প্রতিনিধত্ব করেছিলেন।



আরো জানুন:

(১)  বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরণার উৎস হলো ৭ মার্চের ভাষণ: রাষ্ট্রপতি

(২) আবুল মাল মুহিতের অবসরে যাওয়া




Follow us