SIKDER ONLINE

Trusted news blog of the World.

”আদা” আমাদের কতটা উপকারী তা জানলে অবাক হবেনই..!

”আদা” আমাদের কতটা উপকারী তা জানলে অবাক হবেনই..! আদা- ইংরেজিতে যাকে বলা হয় জিংগার (Ginger)। আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

মশলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম। পরিমিত আদা খাওয়ার অভ্যাসে রক্ত – সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। আদা খাদ্যশিল্পে, পানীয় তৈরীতে, আচার, ঔষধ ও সুগন্ধি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়।

আদা একটি ভেষজ ঔষধ ও বটে। আদা শুকিয়ে চিবিয়ে খেলে মুখের রুচি বাড়ে এবং বদহজম রোধ হয়। অধিকন্তু সর্দি, কাশি, জন্ডিস, আমাশয়, পেট ফাঁপায় আদা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়ে থাকে।

আদার উপকারীতা সমূহঃ

আদা খেলে শরীরের যে উপকার গুলো হয়ঃ
১. আদা  মল পরিস্কার করে, ভারী, উষ্ণ,খিদে বাড়ায়, পাকে মধুর রুক্ষ, রায়ু ও কফ দূর করে।
২. আদা বেটে বা পিষে রস বানিয়ে খেলে আহারে রুচি আসে এবং ক্ষুধা বাড়ে।
৩. আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে কাশি সারে।
৪. আদার রস শরীর শীতল করে, মধুর তীক্ষ্ন, এবং হার্টের পক্ষেভালো।
৫. হৃদরোগ ও শরীরের ভেতরে বায়ু ও আমাশা সারিয়ে তোলে।
৬. আদার রস শরীর শীতল করে।
৭. আদা রক্তশূন্যতা দূর করে।
৮. আদা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
৯. আদার রসে পেটব্যথা কমে।
১০. আদা পাকস্থলী ও লিভারের শক্তি বাড়ায়।

হজম শক্তির জন্য আদাঃ

ক.  আদায় পানীয় লবণ মিশিয়ে পান করলে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়। খিদে বেড়ে যায়,কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং আমাশয় সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

খ. ভোজনের আগে আদা-লবণ সর্বদাই পথ্য। বিশেষত বর্ষা ও শীতে এভাবে আদা খাওয়া শরীরের পক্ষে হিতকর।

গ.  এটি চিবিয়ে খেলে মুখে লালা বা থুতুর উৎপন্ন হয়। এই লালা (স্যালাইভা) বা থুতু তাড়াতাড়ি খাবার হজম করতে সাহায্য করে থাকে, ফলে অরুচি ও খুদামন্দা দূর করতে আদা খাওয়ার দরকার আছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে আদাঃ

আদা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানুষের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ফলে ডায়াবেটিস রোগের উপশম হয়।সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে র গবেষকরা সম্প্রতি এসব তথ্য দিয়েছেন।

ডায়াবেটিস রোগের চিকিত্সায় আদার কোনো উপকারিতা আছে কি না তানিয়ে গবেষণা করেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে র রসায়ন বিভাগের একদল গবেষক।

অধ্যাপক বাসিল রৌফোগালিস এতে নেতৃত্ব দেন।গবেষণায় বেরিয়ে আসে যে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে আদা।

গ্লুকোজ রোগীর শরীরে নানা জটিলতা বাড়ায়।আদার নির্যাস শরীরের কোষে গ্লুকোজের শোষণক্ষমতা বৃদ্ধি করে,যা ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে দীর্ঘমেয়াদে সুগারের স্তর ঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে এবং কোষগুলোতে নির্বিঘ্নে ইনসুলিনের চলাচল ঠিক রাখে।

ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে সাধারণ অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের স্তর নিম্নমাত্রায় থাকে। ফলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিত পড়তে হয়। আদার রস সেই স্তরের বৃদ্ধি ঘটায়। পেশির কোষগুলোতে গ্লুকোজের ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়; ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

রুচি বাড়ানোর জন্য আদাঃ

১.আদার রস,পাতিলেবুর রস ও লবণ বা শুধু লবণ শিশিয়ে খেলে মুখশুদ্ধি হয়।খিদে বাড়ে, রুচিকর, সায়ক (অর্থাৎ বদ্ধ বায়ু ও মল নিঃসারণ করে) খেতে ভালো লাগে,বায়ু ও কফ নাশ করে; ফোলা, ক্ষুদা- মন্দা সারিয়ে দেয়।

আদা আরো যে কাজে উপযোগীঃ
i.  জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, ব্যথায় আদা উপকারী।
ii. আদার রস  বসন্ত রোগে বেশ উপকারী।
iii. অতিরিক্ত ওজন ঝরাতেও আদা সাহায্য করে।

রান্নায় আদার ব্যবহার রান্নার স্বাদকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। ওই একই আদার সবজিতে ব্যবহার করে খেলে সাধারন আদার মত অনেক ঔষধি গুণ পাওয়া সম্ভব।

যেমন-ঠান্ডা লেগে গলা খুসখুস, আর্থারাইটিস, কাশি, বমি ভাবের মত সমস্যা দূর করতে এক টুকরো আদাই যথেষ্ট।

 

কস্তুরী কি এবং কোথায় পাওয়া যায় ?

আদার অপকারীতা সমূহঃ

আদার অনেক ঔষধি গুন থাকা সত্বেও এটি  বেশি পরিমাণে খেলে, বা অসময়ে খেলে তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

কারণ আদা যেমন অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পরম বন্ধু, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা শরীরের চরম শত্রুও বটে। তাই আদার গুণাগুণ জানার পাশাপাশি, এটা জানাটাও অত্যন্ত জরুরি যে, কারা আদার ধার-পাশ দিয়েও যাবেন না।

১. যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য আদা-
যারা স্বাস্থ্য কমাতে চান তাদের জন্য আদা বিশেষ উপকারে আসলেও, যারা চিকন স্বাস্থ্যের অধিকারি, ওজন বাড়াতে উত্‍‌সাহী তাদেরকে অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত; কারণ আদা প্রচন্ডভাবে খিদে কমিয়ে ফেলে।

তাছাড়াও শরীরের মেদ বা চর্বি গলানোর প্রক্রিয়ায় আদা বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সেজন্য যারা ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য আদা কোন কাজে আসবে না।

২. অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য আদা-
শরীরে কড়া উদ্দীপক হিসেবে  আদা  বিশেষ কাজ করে থাকে; তাই অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য আদা খেলে, প্রি-ম্যাচিওর শিশু জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সেজন্য গর্ভবতী মহিলাদেরকে অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত।

বিশেষত প্রেগন্যান্সির শেষ সপ্তাহ গুলিতে তো আদা মোটেই খাওয়া উচিৎ নয়। ”আদা” আমাদের কতটা উপকারী তা জানলে অবাক হবেনই..!

৩. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা ওষুধ খান:
ডায়াবেটিসের লেভেল কমাতে আদা কার্যকরী হলেও, যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ডায়েট চার্ট থেকে আদাকে চিরতরে ডিলিট করে দিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা রেগুলার ঔষুধ সেবনে অভ্যস্থ, তাদেরকেও আদা এড়িয়ে চলা উচিত; ”আদা” আমাদের কতটা উপকারী তা জানলে অবাক হবেনই..!

আদার চিকিৎসা:

** আদা দিয়ে খুসখুসে কাশি কিভাবে  দূর করা যায়?

আদা, মধু ও কমলার খোসা দিয়ে কাশি দূর করুন
একটি প্যানে দেড় গ্লাস পানি ফোটান, ফুটন্ত পানিতে ১ ইঞ্চি আদা কুচি করে ছেড়ে দিনে এবং ৫ মিনিট ধরে ফুটান; ৫ মিনিট পর পানিতে একটি কমলার খোসা কুচি করে দিয়ে দিন। চুলার জ্বাল কমিয়ে ৫ মিনিট রাখুন।

তারপর চুলা থেকে প্যানটি (পাত্রটি) নামিয়ে খানিকটা ঠাণ্ডা করে নিন। কুসুম গরম অবস্থায় সেখানে ১ – ২ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। আদা, মধু ও কমলার খোসার মিশ্রণ মর্নিং ওয়াকের পর পান করুন । ঠাণ্ডা ও খুসখুসে কাশি থাকলে প্রতিদিন কয়েকবার পান করতে পারেন মিশ্রণটি।

আদা ও লেবু দিয়ে কাশি দূর করুন
মাঝারি জ্বালে এক কাপ পানি ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত পানিতে ১ ইঞ্চি আদা কুচি করে দিন। জ্বাল কমিয়ে ঢেকে রাখুন ৫ মিনিট। কুসুম গরম থাকা অবস্থা ১ চা চামচ লেবুর রস ও স্বাদ মতো মধু মিশিয়ে পান করুন।  উপকার পাবেন।

তথ্য: ই-হেলথ টিপস

আরো জানুন:

(১)  আমলকীর গুনাগুন যা জানলে আপনার অবাক মনে হতেই পারে।

(২) অভ্যাস করুন সুস্থ থাকুন।

Please enable JavaScript to view the comments powered by Disqus.