জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রতিটি শিল্পীর জন্য প্রতীক্ষিত : তিশা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬টি ক্যাটাগরিতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে।

ওই বছরের জন্য ‘অজ্ঞাতনামা’কে সেরা চলচ্চিত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের গেজেটে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নুসরাত ইমরোজ তিশা পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ৪১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী।

অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিশা বলেন, ‘প্রতিটি শিল্পীর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার খুব প্রতীক্ষিত। খুব ভালো লাগছে। দায়িত্ব বেড়ে গেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন আরও কাজ করতে পারি এবং এই পুরস্কারের মর্যাদা ধরে রাখতে পারি। যে ছবির জন্য পেয়েছি এর পরিচালক অনন্য মামুনকে ধন্যবাদ।

সবাই আমাকে উইশ করছে। এই ভালো লাগা বলে প্রকাশ করতে পারব না।’

প্রকাশিত গেজেট অনুসারে, ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা চঞ্চল চৌধুরী।

২০১৬ সালের জন্য যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা ও অভিনেতা ফারুক। ওই বছরের জন্য শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘ঘ্রাণ’।

এ ছাড়া ‘জন্মসাথী’কে শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ঘোষণা করা হয়েছে।

যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়েছেন ‘অস্তিত্ব’ ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা তিশা ও ‘শঙ্খচিল’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করা কুসুম শিকদার।

‘পুড়ে যায় মন’ সিনেমায় অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা হয়েছেন আলীরাজ।

তার সঙ্গে যৌথভাবে একই সম্মাননা পেয়েছেন ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’র অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু।

‘কৃষ্ণপক্ষ’ সিনেমায় অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হয়েছেন তানিয়া আহমেদ। অজ্ঞাতনামার অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হয়েছেন।

আর শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হয়েছে শঙ্খচিলে অভিনয় করা সাঁঝবাতি।

মেয়েটি এখন কোথায় যাবের সংগীত পরিচালনা করে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হয়েছেন ইমন সাহা। একই সঙ্গে তিনি শ্রেষ্ঠ সুরকারও হয়েছেন।

আর ‘নিয়তি’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক হয়েছেন হাবিব।

‘দর্পণ বিসর্জন’ সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়ে শ্রেষ্ঠ গায়ক হয়েছেন ওয়াকিল আহমেদ। কৃষ্ণপক্ষ সিনেমায় গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন।

মেয়েটি এখন কোথায় যাবের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হয়েছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। অজ্ঞাতনামার জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার হয়েছেন তৌকীর আহমেদ।

আন্ডার কনস্ট্রাকশনের নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন হয়েছেন শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা। আয়না-বাজির জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হয়েছেন অনম বিশ্বাস ও গাউসুল আলম শাওন।

একই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পাদক হয়েছেন ইকবাল আহসানুল কবির।

শঙ্খচিলের জন্য শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক হয়েছেন উত্তম গুহ। আয়নাবাজির রাশেদ জামান হয়েছেন শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক। একই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত রিপন নাথ হয়েছেন সেরা শব্দগ্রাহক।

নিয়তি সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা শিল্পী হয়েছেন সাত্তার। আয়নাবাজির জন্য একই সম্মাননা পেয়েছেন ফারজানা সান। শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান হয়েছেন আন্ডার কনস্ট্রাকশনের মানিক।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ সাংবাদিকদের জানান, অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিজয়ীদের হাতে খুব শিগগিরই পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরো জানুনঃ

(১) এবার ‘দহন’ ছবিতে আলোচিত নায়িকা মম

(২) অনুভুতি সম্পন্ন সেক্সবট আসায় পর্ন জগতের ব্যাপক পরিবর্তন