SIKDER ONLINE

Trusted news blog of the World.

শীতকালীন অলিম্পিকে নাইজেরিয়া

আফ্রিকা তো বরফ বা তুষারপাতের জন্য পরিচিত নয়, তাহলে সেখানকার ক্রীড়াবিদরা শীতকালীন অলিম্পিকে কি করছে? কেমন করছে? দক্ষিণ কোরিয়ায় চলছে শীতকালীন অলিম্পিক, দু সপ্তাহ ধরে ক্রীড়ামোদিদের অনেকেরই নজর সেদিকে।

কিন্তু শুধু কোন খেলার ইভেন্টে কি হলো সেদিকেই যে লোকের আগ্রহ তাই নয় – অলিম্পিক মানেই আরো নানা ধরণের বিচিত্র সব গল্প। তার একটি হচ্ছে শীতকালীন অলিম্পিকে আসা আফ্রিকান ক্রীড়াবিদদের নিয়ে।

মজার ব্যাপার হলো, তারা কিন্তু নানাভাবে নজর কেড়েছেন।

নাইজেরিয়ান ববস্লেড টিম দর্শকদের সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৮৮ সালে ক্যালগারি অলিম্পিকে জ্যামাইকান ববস্লেড টিমের কথা।

ববস্লেড ইভেন্টে এই প্রথম কোন আফ্রিকান দল অংশ নিচ্ছে। আর কোন শীতকালীন অলিম্পকে এই প্রথম নাইজেরিয়ার কোন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এই দলের তিন জন নারী। তারা ইতিমেধ্যেই নাইজেরিয়ায় ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠেছেন।

অলিম্পিকে আসার স্বপ্ন পূরণ তাদের জন্য সহজ ছিল না। এজন্য তাদের ক্রাউডফান্ডিং অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে হয়েছে।

একটা সমস্যা অবশ্য আছে। তা হলো, এদের কারুরই জন্ম নাইজেরিয়ায় নয়, বরং আমেরিকায়। কিন্তু তারা তাদের বাবা-মায়ের দেশের প্রতিনিধি হয়ে অলিম্পিকে এসেছেন।

এটা নিয়ে কেউ যে প্রশ্ন তুলছেন না – তা নয়।

নাইজেরিয়ার একজন জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ কোরেড ওলুওলে। কিনি বলছেন, যে দেশের শীতকালীন অলিম্পিকে যা্বার কোন ইতিহাস নেই, যে ক্রীড়াবিদরা সেদেশের মাঠে প্রশিক্ষণও নেয় নি কখনো – তাদেরকে কেন নাইজেরিয়া অলিম্পিকে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে দিচ্ছে?

“আমার মনে হচ্ছে এসব আফ্রিকান দেশ দেখছে – কোন পরিশ্রম ছাড়া শীতকালীন অলিম্পিকে নিজেদের তুলে ধরার এটাই তো একটা সুযোগ। আর ক্রীড়াবিদরাও দেখছে তাদের পিতামাতার দেশের নামে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাবার এটা এক সুযোগ – তাই এটা করা হচ্ছে” – বলছিলেন মি. ওলুওলে।

নাইজেরিয়ান এই দলটি একা নয়। এরকম আরো অনেকেই আছে।

যেমন, এলিজাবেথ সোয়ানি, তারও জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে । কিন্তু তিনি শীতকালীন অলিম্পিকে এসেছেন হাঙ্গেরির প্রতিনিধি হয়ে – যা তার বাবা-মায়ের আদি দেশ।

সাব্রিনা সিমানডার – তিনি কেনিয়ার হয়ে দুটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন। তার জন্ম কেনিয়ায় হলেও তিনি বড় হয়েছেন অস্ট্রিয়ায়।

তার কথা, “আমার মায়ের দেশ কেনিয়া, আমি আমার মাতৃভূমিকে কখনো ত্যাগ করতে চাই না।”

ঘানার আকওয়াসি ফ্রিমপং পিয়ংচ্যাংএর আরেক ফেভারিট। তিনি ঘানায় বাস করেছেন তার আট বছর বয়েস পর্যন্ত। তার পর তার মা তাকে নিয়ে যান নেদারল্যান্ডসে। তিনি নেদারল্যান্ডসের হয়েই শীতকালীন অলিম্পিকসে এসেছেন।

এরা শীতকালীন অলিম্পিকে যাবার তাড়নায় নানা পথ বের করেছেন। আইনের এসব ফাঁক ফোকর কি বন্ধ করা উচিত? মি. ওলুওলে একমত। তার কথা ব্যাপারে নিয়মকানুনের অভাব আছে – তাই সেলিব্রিটি হবার তাড়নায় অনেকেই এভাবে অলিম্পিকে আসার পথ করে নিচ্ছেন।

কিন্তু স্পোর্টস মার্কেটিং কর্মকর্তা টিনুওলা আকিনোলা মনে করেন, অলিম্পিকে আরো আফ্রিকান দেশের অংশগ্রহণ থাকা উচিত।

“এখানে যারা আসছে তারা নামা কামাতে আসছে, বা তারা স্বার্থপর, এমন কথা বলা বা এরকম ইঙ্গিত করা অন্যায়।”

আরো জানুন:

(১) অজানা দাম্পত্যে জড়িয়েছেন অমিতাভ বচ্চন।

(২) প্রেম ও যৌনতায় আগ্রহ নেই জাপানী তরুন-তরুনিদের

Please enable JavaScript to view the comments powered by Disqus.